বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ॥
ঢাকা: পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে আবারও উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ ২০২৬) অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের (ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন সদৃশ বস্তু) উপর্যুপরি আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত তিনটি বিশাল কার্গো জাহাজ। এর মধ্যে একটি জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, তবে অধিকাংশ নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপি ও ব্রিটিশ মেরিটাইম সিকিউরিটি এজেন্সির (ইউকেএমটিও) বরাত দিয়ে বুধবার এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
হামলার লক্ষ্যবস্তু ও ক্ষয়ক্ষতি
সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, তিনটি ভিন্ন দেশের পতাকাবাহী জাহাজ এই হামলার শিকার হয়েছে:
থাইল্যান্ডের জাহাজ (মায়ুরি নারি): ওমানের উপকূল থেকে মাত্র ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে থাইল্যান্ডের পতাকাবাহী এই বাল্ক ক্যারিয়ারটি হামলার শিকার হয়। প্রজেক্টাইলের আঘাতে জাহাজটিতে আগুন ধরে গেলেও পরবর্তীতে তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। বর্তমানে পরিবেশগত কোনো বিপর্যয়ের ঝুঁকি নেই এবং জাহাজটিতে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সংখ্যক নাবিক অবস্থান করছেন।
জাপানের জাহাজ (ওয়ান ম্যাজেস্টি): জাপানি পতাকাবাহী এই কন্টেইনার জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাস আল খাইমাহর ২৫ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পশ্চিমে আক্রান্ত হয়। জাহাজের সকল নাবিক অক্ষত আছেন এবং জাহাজটি বর্তমানে একটি নিরাপদ নোঙরস্থানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
মার্শাল আইল্যান্ডসের জাহাজ (স্টার গুইনেথে): দুবাই থেকে প্রায় ৫০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে হামলার মুখে পড়ে মার্শাল আইল্যান্ডসের এই বাল্ক ক্যারিয়ারটি। তবে সৌভাগ্যবশত এই জাহাজের নাবিকরাও নিরাপদ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
সংকটে বৈশ্বিক জ্বালানি পথ
মেরিটাইম ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংস্থা ভ্যানগার্ড-এর দেওয়া তথ্যমতে, সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে। উল্লেখ্য যে, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে সম্পন্ন হয়। সাম্প্রতিক অস্থিরতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪টি জাহাজ এই এলাকায় হামলার শিকার হলো, যা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স ও এএফপি।